মেনু নির্বাচন করুন

এক নজরে ৮ নং বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদ

ইউনিয়নের নামঃ ৮নং বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদ;

কার্যালয়ঃ বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, গ্রামঃ পিসনাইল, ডাকঘরঃ ফুলবাড়ীয়া হাট-৮১৪০, উপজেলাঃ সালথা, জেলাঃ ফরিদপুর;

চেয়ারম্যানঃ জনাব মো. নুরুল ইসলাম, মোবাইল নম্বরঃ ০১৮১১১১৫৫৫৩, ০১৭৪০৮০৫৪৪১;

সচিবঃ জনাব মো. সেলিম লসকর, মোবাইল নম্বরঃ ০১৭১৭২৯৭৯২৪;

সাবেক চেয়ারম্যান বৃন্দ (স্বাধীনতা উত্তর)ঃ জনাব পান্নু মিয়া, জনাব কাজী আলী আশরাফ (নান্নু) মিয়া, জনাব  মোঃ জয়নাল আবেদীন মোল্যা, জনাব মোঃ মজিবর রহমান মাষ্টার, জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান (লুলু);

আয়তনঃ ২১.০৮ বর্গ কিলোমিটার;

ফরিদপুর জেলা সদর হতে দূরত্বঃ ৪৫ কিলোমিটার, সালথা উপজেলা সদর/থানা হতে দূরত্বঃ ১৩ কিলোমিটার;

জনসংখ্যাঃ ১৯,৭৯০ জন, পুরুষঃ ৯৬৯৫ জন, মহিলাঃ ৯৮৯৫ জন (আদমশুমারী ২০১১ অনুযায়ী);

ভোটার সংখ্যাঃ ১২,৭৬৩ জন, পুরুষ ভোটারঃ ৬৩৭১ জন, মহিলা ভোটারঃ ৬৩৮২ জন (২০১৬ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী);

ইউনিয়নের মৌজাঃ মোট ১০ টি । ০১. বিষ্ণুদী, ০২. ৫৮ নং ফুলবাড়ীয়া, ০৩. ৫৭ নং কেশারদিয়া, ০৪. কামাইদিয়া,  ০৫. রাজনগর, ০৬. কলাগাছিয়া, ০৭. বাউষখালী, ০৮. সোনাতুন্দী, ০৯. বল্লভদী ও ১০. চন্ডিবর্দী;

মোট ভোটার এলাকাঃ ২২ টি । ০১. চর বল্লভদী, ০২. রায় বল্লভদী, ০৩. উত্তর চন্ডিবর্দী (১নং ওয়ার্ড); ০৪. কাজীর বল্লভদী, ০৫. ভড় বল্লভদী, ০৬. খালিশা বল্লভদী (২নং ওয়ার্ড); ০৭. সোনাতুন্দী (৩নং ওয়ার্ড); ০৮. আলমপুর, ০৯. কেশারদিয়া, ১০. বালিরচর, ১১. পিসনাইল, ১২. দেওয়ালীকান্দা (৪নং ওয়ার্ড); ১৩. কামাইদিয়া, ১৪. রাজনগর (৫নং ওয়ার্ড); ১৫. বাউষখালী, ১৬. কলাগাছিয়া (৭নং ওয়ার্ড); ১৭. বিষ্ণুদী (৭নং ওয়ার্ড); ১৮. মধ্য ফুলবাড়ীয়া, ১৯. উত্তর ফুলবাড়ীয়া (৮নং ওয়ার্ড); ২০. পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, ২১. গোপীনগর, ২২. দক্ষিণ ফুলবাড়ীয়া (৯নং ওয়ার্ড);

ইউনিয়নের সীমানাঃ উত্তরে সালথা উপজেলার সোনাপুর ও মাঝারদিয়া ইউনিয়ন, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা, পূর্বে নগরকান্দা উপজেলার চরযোশরদী ও পুড়াপাড়া ইউনিয়ন এবং পশ্চিমের সম্পূর্ণ অংশ ও দক্ষিণের কাছু অংশ কুমার নদ পরিবেষ্টিত ওপারে সালথা উপজেলার যদুনুন্দী ইউনিয়ন এবং গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা;

ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম সমূহঃ সর্ব উত্তরে বিষ্ণুদী, দক্ষিণে চর বল্লভদী; পূর্বে দেওয়ালীকান্দা, কলাগাছিয়া, বাউশখালী, সোনাতুন্দী, ভড় বল্লভদী ও রায় বল্লভদী; পশ্চিম সীমান্তে কুমার নদ বিধৌত ফুলবাড়ীয়া, আলমপুর ও কেশারদিয়া । দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুমার নদের কোল ঘেঁষে কামাইদিয়া, রাজনগর, বাউষখালী, সোনাতুন্দী, কাজীর বল্লভদী এবং উত্তর চন্ডিবর্দী গ্রাম;

পধান অর্থকারী ফসলঃ পাট, পেঁয়াজ, ধান, পান;

মৌসূমী ফসলঃ গম, মশুর, শরিষা, তিল, খেঁসাড়ী, ভুট্রা, ছোলা, কালোজিরা ইত্যাদী;

শব্জীঃ পুঁই শাক, পালং শাঁক, লাল শাঁক, টমেটো, মূলা, গাঁজর, বাঁধা কপি, ফুল কপি, শালগম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স, করোলা, শশা, ধুঁন্দল, জিঙ্গা ইত্যাদী;

ফলঃ আম, কাঁঠাল, কলা, জাম, পেঁপেঁ, লিচু, সফেদা, জামবুরা, কামরাঙ্গা, পেয়ারা, আমড়া, বেল, কৎবেল, আতা, নারকেল, বাঙ্গী, ডালিম, বরই, জামরুল, ডৌয়া, কাউফল, চালতা, তেঁতুল, তাল ইত্যাদী । বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষক বনিজ্যিকভাবে আম, লিচু এবং বরইয়ের চাষ করছেন;

ঔষধী ফলঃ হরিতকী, বহেরা, আমলকি ইত্যাদী;

ঔষধী গাছঃ  অর্জূন,  নিম, নিশিন্দা, তুলসী, জবা, লজ্জাবতী, সজনে ইত্যাদী;

ঔষধী গাছ গুল্ম/লতাঃ পাথরকুঁচি, বাশক, দূর্বাঘাঁস, ধুঁতরা, থানকুনী, শতমূল, স্বর্ণলতা, চিরতা, ভাটফুল, এলোভেরা ইত্যাদী;

বৃক্ষঃ বট, পাকড়;

আবাদী বনজ গাছ-গাছালীঃ মেহগনি, রেইনট্রি, চাম্বুল, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদী;

ফুলঃ শাপলা, পদ্ম, কৃষ্ণচুড়া, কদম, সোনালী, শিমুল, গোলাপ, জবা, জুঁই, হাস্নাহেনা, গাঁদা, বেলী, সূর্যমূখী, গন্ধরাজ, শেফালী, কামিনী, বকুল, অপরাজিতা/নীলকন্ঠ, নয়ন তারা, শালুক, চন্দ্রমল্লিকা, পলাশ, চাঁপা, রঙ্গন, দোপাটী, টগর ইত্যাদী;

প্রধান পেশাজীবিঃ কৃষক;

অনান্য পেশাজীবিঃ চাকুরী, গার্মেন্টস শ্রামিক, পাটকল শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, ধোপা, নরসুন্দর, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক ইত্যাদী;

স্থায়ী জলাশয়ঃ ফুলবাড়ীয়া দোহা । এ ছাড়াও ইউনিয়নের পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে কুমার নদ এবং পূর্ব সীমান্ত জুড়ে গজারিয়া খাল ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত না হলেও ইউনিয়নের ব্যাপক সংখ্যক লোক এসব জলাশয়ের সুবিধা ভোগ করেন;

অস্থায়ী জলাশয়ঃ চিতলিয়া বিল, চাপুলিয়া বিল, কোপডাঙ্গা বিল;

খালঃ মালিবাড়ী খাল (ফুলবাড়ীয়া মৌজা), বাউষখালী খাল (বাউষখালী মৌজা), কেশারদিয়া খাল (কেশারদিয়া মৌজা), বের্জখালী খাল (ফুলবাড়ীয়া মৌজা), বারাশিয়া খাল (ফুলবাড়ীয়া মৌজা);

মৎস্য সম্পদঃ স্থায়ী এবং অস্থায়ী জলাশয় সমূহে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত কৈ, শিং, মাগুর, শোল, গজার, বোয়াল, রুই, কাতল, চিতল, আইড়, টেংরা, বাইম, পুটি, চিংড়ী, টাকী, চেলা, মলঙ্গী, বাটা, মেনী, বেলে, কাইকা, খলিশা ইত্যাদী;

বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত মৎসঃ তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, সিলভারকার্প, গিলাশকার্প, আমেরিকান রুই, ব্রীকেট ইত্যাদী;

দর্শণীয় স্থানঃ প্রায় তিন শতাব্দী পুরোনো ঐতিহাসিক বাউষখালী বাবু বাড়ী, ফুলবাড়ীয়া দোহা, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আলমপুর গণ কবর;

ধর্মীয় জনগোষ্ঠীঃ শতকরা প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম এবং বাঁকি হিন্দু ধর্মাবলম্বী;

ধর্মীয় উপাসনালয়ঃ মসজিদ ৬৭ টি, দর্শণীয় মসজিদ সমূহের মধ্যে ফুলবাড়ীয়া ওমর ইবনুল খাত্তাব মাদ্রাসা কমপ্লেক্স এর জামে মসজিদ, সোনাতুন্দী চেয়ারম্যান বাড়ী জামে মসজিদ, সোনাতুন্দী চর পাড়া নূতন জামে মসজিদ, খালিশা বল্লভদী জামে মসজিদ;

মন্দির সব মিলিয়ে ৪০ টির অধীক । উল্লেখযোগ্য বাউষখালী বাবু বাড়ী দূর্গা মন্দির, ফুলবাড়ীয়া আনন্দ আশ্রম, ফুলবাড়ীয়া ঠাকুর বাড়ী বাসন্তি পূজা মন্দির, ফুলবাড়ীয়া কালী মন্দির, উত্তর চন্ডিবর্দী সাহা পাড়া দূর্গা মন্দির;

ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ মাদ্রাসা ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ টি । প্রধান ০৩ টি ফুলবাড়ীয়া ওমর ইবনুল খাত্তাব মাদ্রাসা কমপ্লেক্স, সোনাতুন্দী সালাম নগর মাদ্রাসা এবং খালিশা বল্লভদী হাফেজিয়া মাদ্রাসা । হিন্দু ধর্মীয় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই;

বিদ্যালয়ঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয় ১০ টি, এমপিও ভূক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০২ টি, উচ্চ মাধ্যমিক নাই,আলিয়া মাদ্রাসা নাই ।

হাটঃ ০২ টি । ফুলবাড়ীয়া হাট (প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার), বাউষখালী হাট (প্রতি সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার);

বাজারঃ ০৪ টি । ফুলবাড়ীয়া, বাউষখালী, দেওয়ালীকান্দা ও বিষ্ণুদী;

যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ প্রধান যোগাযোগ সড়ক পথ । ঢাকা খুলনা হাইওয়ে দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে ইউনিয়নের উপর দিয়ে চলে গেছে । পদ্মা বহমূখী সেতু প্রকল্পের রেল পথও ইউনিয়নের উপর দিয়ে খুলনাভীমূখী গেছে কিন্তু অত্র ইউনিয়নে কোনো স্টেশন নাই । বাঁকি সড়ক পথের প্রায় ৮০ শতাংশ বিসি সড়ক, কিছু সোলিং, কিছু এইচবিবি । ২০ শতাংশের মতো রাস্তা এখনও কাঁচা মাটির । নৌ যোগাযোগ নাই তবে বর্ষা মৌসূমে বন্যা কবলিত হলে কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয় নৌযান কোষা নৌকা, ডিঙ্গী নৌকা, ডোঙ্গা ইত্যাদী ব্যবহৃত হয়;

বিদ্যুৎঃ শতভাগ বিদ্যুতায়িত;

বসতবাড়ীঃ শতকরা পঞ্চাশ চল্লিশ ভাগ সেমিপাকা টিনের ঘর, কিছু দালান বাড়ী আছে, কিছু মেঝে পাকা টিনের চালা এবং কিছু কাঁচা মাটির মেঝে সম্পন্ন পাটকাঠি/ছোনের ঘর রয়েছে;

অর্থনৈতিক অবস্থাঃ উচ্চ বিত্ত নাই বললেই চলে, মধ্যবিত্ত হাতে গোনা । কিছু নিম্ন মধ্যবিত্ত আছেন, অধিকংশই নিম্ন বিত্ত ও শ্রমজীবি । হতদরিদ্রের সংখ্যাও কম নয়;

স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাঃ প্রায় শতভাগ পরিবার স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রীণ ব্যবহার করে, নিজস্ব বা সরকারী সহযোগিতায় প্রাপ্য অগভীর নলকূপ, গভীর নলকূপ, পাতকূয়া এবং প্রাকৃতিক জলাধার হতে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য্য পানির সংস্থান হয়;

চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ ১নং ওয়ার্ডের চর বল্লভদী গ্রামে ০১ টি এবং ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া নিশাতলা ০১ টি মোট ০২ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম নিয়মিত চলমান । ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ৬নং ওয়ার্ডে বাউষখালী গ্রামে একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে । বিশেষত গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা এখানে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন;

ব্যাংক বীমা ও এনজিওঃ সরকারী কোনো ব্যাংকের শাখা নাই । বে-সরকারী ডাচ্ বাংলা এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা আছে । গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা এনজিওর কার্যক্রম চলে, কোন বীমা কোম্পানীর অফিস নাই;

সামাজিক সম্প্রীতিঃ হিন্দু মুসলিম উভয় জাতি সম্প্রীতির সাথে বসবাস করছেন কোনো প্রকার ধর্মীয় সহিংসতা বা সাম্প্রদায়িক মতবিরোধ নিই । বড় কোনো সামাজিক বিশৃঙ্খলা নাই তবে কিছু কিছু গ্রামে প্রাচীন দেশীয় অস্ত্র প্রথা ঢাল, শড়কী, বল্লম, রামদা থাকলেও সময়ের পরিবর্তন এবং শিক্ষার প্রভাবে ওগুলো দিন দিন বিলুপ্তির পথে ।